আপনার অগ্রগতি

আপনার সার্টিফিকেট নিন

১১টির মধ্যে টি সম্পন্ন

তথ্যের আইকন

সার্টিফিকেট পেতে কোর্সটি শেষ করুন।

পাঠ ১১: সমস্যা সমাধানের কৌশল

সমস্যা সমাধানের কৌশল

সমস্যা কারও ভালো লাগে না, বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে। তবু সেগুলো আমাদের রোজকার কাজের রুটিনেরই অংশ। এই পাঠে আমরা সবচেয়ে পরিচিত, পরীক্ষিত ৫টি সমস্যা সমাধানের কৌশল নিয়ে কথা বলব, যেগুলো কাজে লাগিয়ে আপনি কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন পরিস্থিতি সহজেই সামলাতে পারবেন।

  1. শ্বাস নিন, শ্বাস ছাড়ুন

    গোড়ার কথা দিয়েই শুরু করি। সমস্যা যত বড়ই হোক, পরিস্থিতি যত গুরুতরই হোক — সহজ একটা কাজ আপনি করতে পারেন: শ্বাস নিন, শ্বাস ছাড়ুন।

    সমস্যার কথা শুনলেই বেশির ভাগ মানুষ চাপে পড়ে যান। তাঁদের মনে হয় সঙ্গে সঙ্গেই একটা উত্তর বের করতে হবে, তাঁরা দোষ দেওয়ার মতো কাউকে খোঁজেন, আর চান দ্রুত ও সহজ একটা মুক্তি। হঠাৎ করেই সমস্যার মুখোমুখি হওয়াটাই একটা আলাদা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

    ঠিক এই কারণেই একটু ধীর হওয়া আর দম নেওয়া জরুরি। চাপে থাকলে আমরা একটি গুরুতর ভুল করি – আমরা আশ্রয় নিই এমন কিছুতে, যাকে বলা হয় বাইনারি সমস্যা সমাধান। অর্থাৎ নতুন ও আরও কার্যকর কিছু চেষ্টা না করে পরীক্ষিত সমাধানেই ফিরে গিয়ে আমরা নিজেদের বিকল্প সীমিত করে ফেলি।

  2. সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপ হিসেবে দারুণ সব প্রশ্ন করুন

    প্রশ্ন করা সমস্যা সমাধানের আগের ধাপেরই অংশ। প্রশ্ন করলে আপনার মস্তিষ্ক নানা রকম পরিস্থিতি আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপায় ভেবে বের করতে পারে। যত বেশি প্রশ্ন করবেন, সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া তত সহজ হবে।

  3. শুধু নিজের ওপরই ভরসা করবেন না

    জানি শুনতে অদ্ভুত লাগছে, তবু একটু শুনুন। সমস্যা তৈরি হয়ে অমীমাংসিত থেকে যাওয়ার অনেক কারণের একটি হলো — আমরা এতটাই আলসে বা ব্যস্ত যে সমস্যা থেকে খানিকটা দূরত্ব নিতে পারি না। অর্থাৎ একটু পিছিয়ে গিয়ে বড় ছবিটা না দেখে আমরা শুধু নিজের দৃষ্টিকোণ থেকেই ভাবি।

    যেমন, আপনি যদি আমাদের শিল্পে (SaaS) থাকেন, তাহলে এমন হতে পারে যে মানুষ আপনার অ্যাপে সাইন আপ করেন আর ট্রায়াল শেষে উধাও হয়ে যান। হ্যাঁ, আপনি ওয়েবসাইটে আরও ট্রাফিক আনার চেষ্টা করতে পারেন, তবে আরও কিছুও করার আছে। নিজেকে করতে পারেন এমন কয়েকটি প্রশ্ন:

    • আমার ব্যবসার শিল্পটা কি বদলে গেছে?
    • আমার অ্যাপ কি সত্যিই গ্রাহকদের চাহিদা মেটায়?
    • আমার সেলস কৌশলে কি উন্নতি দরকার?

    উপসংহার: নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা সামলাতে যাওয়ার আগে বড় ছবিটা দেখে নিন।

  4. সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে জোরদার ব্রেনস্টর্মিং করুন

    যেকোনো সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো ব্রেনস্টর্মিং সেশন। অবশ্যই, যেকোনো ব্রেনস্টর্মিং সেশনের পূর্বশর্ত হলো বিচার না করা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ।

    এবার পেশাদারের মতো ব্রেনস্টর্ম করতে চাইলে আপনাকে নিচের ধাপগুলো নিতে হবে।

    1. HMW বা How Might We

      টিমের মধ্যে সৃজনশীলতা জাগাতে সেশনটি শুরু করুন “আমরা কীভাবে পারি…” ধরনের একটি প্রশ্ন দিয়ে। প্রশ্নটি এতটাই খোলা হওয়া উচিত যাতে তা সৃজনশীলতা জাগায় ও বাড়ায়। তবে সেটি যথেষ্ট নির্দিষ্ট ও সংকীর্ণও হওয়া চাই, যাতে সেশনের অংশগ্রহণকারীরা হাতের সমস্যাটিতেই মনোযোগী থাকেন।

    2. সবকিছু লিখে রাখুন

      ব্রেনস্টর্মিং সেশনের প্রত্যেক সদস্যের উচিত নিজের সব আইডিয়া লিখে রাখা — বোর্ডে কিংবা স্টিকি নোটে। সব আইডিয়া পেয়ে গেলে সেগুলো একটি সাধারণ বোর্ডে সাজিয়ে রাখুন। যথেষ্ট আইডিয়া না এলে একই প্রশ্ন নিয়ে সেশনটি আবার করুন।

    3. আপনার আইডিয়াগুলো নিয়ে আলোচনা করুন

      আপনি ও আপনার টিমের ভেবে বের করা প্রতিটি আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করতে “আমার ভালো লাগে…”, “আমি চাই…”, “যদি এমন হতো…” ধরনের বাক্যাংশ ব্যবহার করুন।

    4. সেরা আইডিয়াগুলো বেছে নিন

      সব আইডিয়া এক জায়গায় এসে গেছে, এবার সেরাটি খুঁজে বের করার পালা। যেমন, স্টিকি নোট ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের ভোট দিতে দিতে পারেন। চাইলে আইডিয়ার জন্য আলাদা খোপও বানাতে পারেন — যেমন “যুক্তিসঙ্গত পছন্দ”, “সবার জন্য সেরা সমাধান” ইত্যাদি।

      এই পদ্ধতিতে আপনি এমন কিছু আইডিয়া বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন, যেগুলো প্রথমে পাগলাটে মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে আসলে দারুণ যুক্তিসঙ্গত।

    5. সমস্যা সমাধানের কৌশল বের করুন

      এই ধাপে আপনার হাতে ব্রেনস্টর্মিংয়ের সেরা আইডিয়াগুলো আছে। এবার সেরাগুলো বেছে নিয়ে সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করার সময়।

  5. ৫টি ‘কেন’

    কোনো সমস্যার গোড়ায় দ্রুত পৌঁছাতে চাইলে এই কৌশলটি ব্যবহার করে দেখুন। আপনাকে শুধু পাঁচবার “কেন” প্রশ্নটি করতে হবে। হাতের সমস্যাটি দিয়ে শুরু করুন আর জিজ্ঞেস করুন কেন এটি ঘটল — খেয়াল রাখবেন উত্তরটি যেন বস্তুনিষ্ঠ হয়। এভাবে আরও চারবার “কেন” জিজ্ঞেস করে যান। একসময় আপনি আপনার প্রশ্নের আসল উত্তরে পৌঁছে যাবেন, আর তখনই সমাধান খোঁজা শুরু করতে পারবেন।

    এই কৌশলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিটি “কেন”-র যুক্তিসঙ্গত ও বস্তুনিষ্ঠ উত্তর দেওয়া। নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তর দেওয়ার তাড়নাটা সামলান। বরং ভাবুন, যুক্তিসঙ্গতভাবে কেন কিছু ঘটল। মনে রাখবেন, কিছু জানেন না তা স্বীকার করা ব্যক্তিগত ধারণা থেকে উত্তর দেওয়ার চেয়ে অনেক ভালো।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি মনে রাখবেন — সমস্যা সবসময়ই হয় আর হতেই থাকবে। সেগুলো কীভাবে সমাধান করবেন তা আপনার হাতেই, আর এখন তো আপনি জানেনই কীভাবে করতে হয়!

সহায়ক উৎস:

সমস্যা সমাধানের ১১টি দুর্দান্ত কৌশল, যা কেউ আপনাকে শেখায়নি

কুইজ

আপনার সার্টিফিকেট নিন
বন্ধ করার আইকন