আপনার অগ্রগতি

আপনার সার্টিফিকেট নিন

১১টির মধ্যে টি সম্পন্ন

তথ্যের আইকন

সার্টিফিকেট পেতে কোর্সটি শেষ করুন।

পাঠ ৮: নিজেকে সামলাতে জানা কর্মী কীভাবে হবেন

নিজেকে সামলাতে জানা কর্মী কীভাবে হবেন

ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানো দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়া। এক দিনেই আপনি গোছানো হয়ে যাবেন না, সময় লাগে। এছাড়া নানা কৌশল ঘেঁটে দেখতে হবে, যাতে বুঝতে পারেন আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে আর কোনটি সবচেয়ে দক্ষ।

তবু সূচি সামলানোর গোড়ার কৌশলগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন, তারপর আরও নির্দিষ্ট পদ্ধতি গড়ে তুলতে পারেন।

এই পাঠে আমরা নিজেকে সামলানোর কয়েকটি পরামর্শ আপনার সঙ্গে ভাগ করে নেব।

  1. একটি তালিকা বানান আর স্মার্ট সূচি ঠিক করুন

    গোছানোর বেশির ভাগটাই যেহেতু পরিকল্পনা, তাই গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, সময়সীমা আর অন্যান্য জরুরি তারিখ আপনার ব্যক্তিগত ক্যালেন্ডারে তুলে রাখার চেষ্টা করুন। নির্ধারিত তারিখের এক-দুই দিন আগেই টাস্ক শেষ করার চেষ্টা করুন, যাতে সম্ভাব্য ভুল শোধরানোর সময় থাকে।

    যেমন, বুধবারে আপনার একটি কাজ জমা দেওয়ার কথা। সেটি সোমবারে শেষ করে মঙ্গলবারে পাঠানোর চেষ্টা করুন। এভাবে আপনার ক্লাউড স্টোরেজ কাজ করা বন্ধ করে দিলে কিংবা ফাইলের ফরম্যাটিং গোলমাল হলে তা ঠিক করার সময় হাতে থাকবে।

    প্রতিদিনের জন্য আলাদা টু-ডু লিস্ট বানাতে ভুলবেন না, আর শুরু করুন কঠিন টাস্কগুলো দিয়ে।

  2. আপনার নথি, ডেস্কটপ ও জায়গা গুছিয়ে নিন

    কখনও ফাইল গুছিয়ে না রেখে থাকলে এখনই শুরু করুন। কারও কারও জন্য এই কাজটি ভীষণ সময়সাপেক্ষ, কারণ তাঁদের অনেক জিনিস আর নথি এলোমেলো পড়ে থাকে। তবু এই ধাপটি অপরিহার্য, একে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

    শুরু করুন আপনার ক্লাউড স্টোরেজ ও কম্পিউটার দিয়ে। একই ধরনের লেখা ও অ্যাপ জড়ো করুন উপযুক্ত ও বর্ণনামূলক নামের ফোল্ডারে। আপনার ডেস্কটপ প্রায় ফাঁকা থাকা উচিত, আর ফাইল খুঁজে পাওয়া উচিত সহজে।

    এরপর সামলান আসল নথিপত্র: বিল, ফাইল, নোট, ব্রোশিয়ার, জার্নাল ইত্যাদি। জিনিসপত্র গোছাতে তাক ও ফোল্ডার ব্যবহার করুন। তারপর আপনার কর্মক্ষেত্রটি গুছিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

    কাজ শেষ হলে সবকিছুই গোছানো থাকবে, আর কোনো ফাইল দরকার হলে ঠিক কোথায় পাবেন তা জানা থাকবে।

    জিনিস জায়গামতো রাখতে ভুলবেন না: নতুন নথি যোগ করার সময় সেগুলো সংশ্লিষ্ট ফোল্ডারেই রাখুন।

  3. প্রশাসনিক কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার করুন

    নিজেকে সামলাতে প্রযুক্তি কাজে লাগে। কিছু ডিভাইসে বিল্ট-ইন অ্যাপ থাকে, যা দিয়ে টু-ডু লিস্ট বানিয়ে টিক দিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া কিছু অ্যাপে থাকে নানা রকম ফিচার — যেমন মিটিংয়ের অ্যালার্ম, ফিটনেস ও স্বাস্থ্য ট্র্যাকার, আর ইন্টারঅ্যাক্টিভ নোটপ্যাড।

    এভাবে কাগজের দরকার পড়ে না, আর আপনার মোবাইল জার্নালটি সবসময় ফোনেই থাকে।

  4. স্বাধীন ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠুন

    এই পরামর্শটির জন্য মানসিকতায় বদল দরকার। নিজেকে ও নিজের কাজ আরও ভালোভাবে সামলাতে চাইলে নিজের কাজের দায়িত্ব নেওয়া উচিত।

    এছাড়া বস কী করতে বলবেন তার অপেক্ষায় থাকবেন না। আগেভাগে শুরু করুন আর যা করছেন তাতে আরও বেশি আবেগ ঢালুন। এভাবে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনরা আপনাকে আদর্শ কর্মী হিসেবে দেখবেন।

    যা চান তা চেয়ে নিতে ভুলবেন না। বেতন বাড়ানো হোক কিংবা কোনো প্রশিক্ষণ কোর্স — ম্যানেজারকে সে বিষয়ে বলুন, আর সরাসরি বলুন।

  5. আপনার টিমের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করুন

    নিজেকে সামলাতে পারেন বলেই যে সবকিছু একা করতে হবে, তা কিন্তু নয়। খোলামেলা যোগাযোগের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে কাজ করাই কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের চাবিকাঠি। প্রশ্ন করতে বা কোনো আইডিয়া দিতে ভয় পাবেন না।

    যেমন, আপনি ডেস্কের কর্মী হলেও কোম্পানির জন্য উদ্ভাবনী কোনো আইডিয়া থাকলে CEO-র কাছে পৌঁছে যান। ফলাফল হতে পারে পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধি, সুনাম বেড়ে যাওয়া — কিংবা তিনটিই।

কুইজ

আপনার সার্টিফিকেট নিন
বন্ধ করার আইকন